আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় একটি সংক্রামক রোগ (এইডস) – যা জনস্বাস্থ্য এর প্রাথমিক ধারণা এর অন্তর্ভুক্ত।
একটি সংক্রামক রোগ (এইডস)

আমরা ইতিমধ্যে সংক্রামক রোগ, কারণগত শ্রেণিবিভাগ, ছড়ানোর মাধ্যম, ঝুঁকি এবং সংক্রামক রোগ সৃষ্টি ও সংক্রমণের কারণ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এই পর্যায়ে উদাহরনস্বরূপ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংক্রামক রোগ নিয়ে আলোচনা করব। যেমন: এইডস।
এইডস-এর পরিচয়ঃ
এইডস হচ্ছে ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত একটি মারাত্নক যৌনবাহিত সংক্রমক রোগ । এ রোগ কতগুলো উপসর্গ ও লক্ষণের সমষ্টি। এইডস্ ইংরেজী চারটি শব্দের সমন্বয়। এর পূর্ণরূপ হচ্ছে
- এ: অ্যাকুয়ার্ড- যা অর্জিত হয়েছে, বংশানুক্রমে বা উত্তরাধিকারসূত্রে সংক্রামিত হয়নি
- আই: ইমিউন- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
- ডি: ডেফিশিয়েন্সি- কম, যথেষ্ট নয়
- এস: সিনড্রোম- বিভিন্ন জটিলতা ও একটি বিশেষ অসুখের লক্ষণ
এইচআইভি এর সংক্রমণের কারণ
১। এইচআইভি/এইডস এর দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অসুরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের ফলে।
২। মায়ের দ্বারা: যদি জন্ম দেওয়ার সময় এইচআইভি ভাইরাস মায়ের দেহে থেকে থাকে তাহলে সেই ভাইরাস বাচ্চার শরীরেও আসতে পারে। যদি জন্ম দেওয়ার পরে কোন কারণে মায়ের ভেতরে থাকা এইচআইভি ভাইরাস চলে আসে তাহলে সেই বাচ্চাকে স্তন্যপানের দ্বারাও বাচ্চার মধ্যে আসতে পারে।
৩। ইনজেকশন: কোন এইচআইভি/এইডস এর রোগীর দেহে ব্যবহৃত করা সুচ কোন অন্য ব্যক্তির শরীরে ব্যবহার করলেও এইচআইভি/এইডস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
৪। শল্য চিকিৎসাশাস্ত্র: শল্য চিকিৎসা শাস্ত্র অর্থাৎ সার্জিকেল ইন্সট্রুমেন্ট যা সার্জারি করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যদি এইচআইভি / এইডস এর রোগীদের শরীরে ব্যবহার করা ইন্সট্রুমেন্ট যদি ভালো করে না ধুয়েঅন্য কোন রোগীর শরীরে ব্যবহার করা হয় তাহলে এইচআইভি/এইডস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
৫। সংক্রামিত রক্ত এইচআইভি/ এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বিনা পরীক্ষা করে যদি ব্যবহার করা হয় তাহলে তার থেকেও এইচ আই ভি / এইডস হতে পারে।
৬। শ্লেষ্মা আবরণ: শ্লেষ্মা আবরণ যা শরীরের ভেতরের অঙ্গ ঘিরে রাখে এবং সকল ক্যাভিটির সবচেয়ে উপরের স্তর তাতে যদি এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত লেগে যায় তাহলে ওই ব্যক্তির এইচআইভি/এইডস হতে পারে।

এইডস রোগের লক্ষন
১। শরীরের ওজন দ্রুত হ্রাস পাবে,
২। দুই (২) মাসেরও বেশি সময় ধরে পাতলা পায়খানা,
৩। ঘন ঘন জ্বর হবে অথবা রাতে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হবে,
৪। শুকনা কাশি হওয়া।
এইডস এর সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই। আবার এইডস আক্রান্ত ব্যাক্তি অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হলে সে রোগের লক্ষণ দেখা যাবে। কারো মধ্যে উপরের এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা দিলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে না যে তার এইডস হয়েছে। তবে, কোন ব্যক্তির এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই বিলম্ব না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে করণীয়
এইচআইভি সংক্রমণ কিভাবে হয়, সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এইডস প্রতিরোধ করতে হবে। এইডস
প্রতিরোধে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারেঃ
১। কোন কারণে রক্ত গ্রহণের প্রয়োজন হলে রক্তদাতার রক্তে এইচআইভি আছে কি না সেটা অবশ্যই পরীক্ষা করে নিতে হবে।
২। শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
৩। যেকোনো যৌনরোগে আক্রান্ত হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৪। প্রতিবারই ইনজেকশনের নতুন সূঁচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।
৫। এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত মায়ের ক্ষেত্রে, সন্তান গ্রহণ, গর্ভাবস্থা, প্রসব এবং সন্তানকে বুকের দুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তবে জিডোভুডিন ওষুধ ব্যবহার করে এই সম্ভাবনা কিছুটা কমানো যায়, এবং তা করলে মায়ের দুধও বাচ্চাকে দেওয়া যেতে পারে (কারণ মার দুধ না পেলে গরিব ঘরে জন্মানো বাচ্চার মৃত্যুসম্ভাবনা আরো বেশী) ।