আমাদের জীবনে এমন অনেক সময় আসে যখন অপ্রত্যাশিত বাধা ও মানসিক চাপে আমরা ভেঙে পড়ি। জীবনের নানা সমস্যার কারণে কখনও আমরা দিশাহারা বোধ করি, হতাশায় নিমজ্জিত হই বা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। এমন পরিস্থিতিতে একজন দক্ষ ও সহানুভূতিশীল কাউন্সিলর মানুষের মানসিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। কাউন্সেলিং মানুষকে তার সমস্যার কথা নির্ভয়ে প্রকাশের সুযোগ দেয়, আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করে এবং প্রতিকূলতার মোকাবিলায় সাহস জোগায়।
আজকের আলোচনার বিষয়ঃ একজন ভালো কাউন্সিলরের গুণাবলি
(পেশেন্ট কেয়ার টেকনিক ১ – কমিউনিকেশন ও কাউন্সেলিং বিষয়ক পাঠ)

একজন ভালো কাউন্সিলরের গুনাবলি
একজন ভালো কাউন্সিলরের গুণাবলি
একজন কার্যকর কাউন্সিলর শুধু ভালো শ্রোতাই নন, বরং তিনি এমন একজন মানুষ যিনি সহানুভূতি, সম্মান, ও আন্তরিকতার মাধ্যমে অন্যের মানসিক বিকাশে সহযোগিতা করেন। নিচে একজন ভালো কাউন্সিলরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি উল্লেখ করা হলো—
- আন্তরিক ও যত্নশীল ব্যবহার:
ক্লায়েন্ট যেন অনুভব করে যে তার সমস্যা গুরুত্ব সহকারে শোনা হচ্ছে। আন্তরিকতা কাউন্সেলিং সম্পর্কের ভিত্তি। - দায়িত্বশীলতা ও সততা:
ক্লায়েন্টের গোপনীয়তা রক্ষা, সঠিক পরামর্শ প্রদান এবং পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করা একজন কাউন্সিলরের মৌলিক দায়িত্ব। - পক্ষপাতহীন মনোভাব:
কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা সামাজিক প্রভাব যেন কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় প্রভাব না ফেলে। ক্লায়েন্টের প্রতিটি বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়। - আত্মনির্ভরশীলতা ও আত্মসচেতনতা:
একজন ভালো কাউন্সিলর নিজের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং নিজের অনুভূতি ও সীমাবদ্ধতা বোঝেন। - ইতিবাচক জীবনধারা ও খোলামন:
আশাবাদী মনোভাব ও পরিবর্তনের প্রতি খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গি ক্লায়েন্টকে উৎসাহিত করে এবং বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে। - অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা:
বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেককে সম্মান দেওয়া একজন ভালো কাউন্সিলরের নৈতিক গুণ। - উষ্ণ আন্তরিকতা, নমনীয়তা ও সহানুভূতি:
সহানুভূতি কাউন্সেলিংয়ের প্রাণ। এটি কাউন্সেলরকে ক্লায়েন্টের মানসিক অবস্থা বুঝতে এবং উপযুক্ত সহায়তা দিতে সাহায্য করে।
ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিং
কাউন্সেলিং শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবারের সদস্যদের মানসিক প্রস্তুতি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন কেয়ারগিভার বা হেলথকেয়ার পেশাজীবী প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের মানুষ—রোগী, সহকর্মী, নার্স, ডাক্তার, সুপারভাইজার বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করেন। প্রতিদিনের কাজের মধ্যে যোগাযোগ, অনুপ্রেরণা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান—সবই কার্যকর কাউন্সেলিংয়ের অংশ।
বয়সজনিত সমস্যা, মানসিক চাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা রোগ-পরবর্তী মানসিক পরিবর্তন—সবক্ষেত্রেই কাউন্সেলিং এক অমূল্য দক্ষতা। এটি শুধু রোগী নয়, তার পরিবারের সদস্যদেরও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে, যাতে তারা সম্মিলিতভাবে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।

কাউন্সেলিং মানবসেবার একটি সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল ক্ষেত্র। একজন ভালো কাউন্সিলর মানুষকে শুধু পরামর্শ দেন না, বরং তার আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলেন, জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেন এবং নতুনভাবে পথ চলার সাহস দেন। তাই পেশেন্ট কেয়ার, নার্সিং কিংবা সামাজিক সেবার প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাউন্সেলিং দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য।