আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ক্লায়েন্ট কাউন্সেলিং বলতে কি বুঝায়। যা পেশেন্ট কেয়ার টেকনিক ১ এর কমিউনিকেশন এন্ড কাউন্সেলিং অংশের অন্তর্গত।

ক্লায়েন্ট কাউন্সেলিং বলতে কি বুঝায়?
আমরা ইতোমধ্যেই জেনে গেছি যে ক্লায়েন্ট বলতে মূলত কি বুঝায়। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট কাউন্সেলিং বলতে আমাদের সেবাগ্রহীতা ব্যক্তিকে তার প্রাত্যহিক বা দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কাজে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং সেবাকে বুঝিয়ে থাকে।
১। ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাউন্সেলিং
ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাউন্সেলিং আমাদের ক্ষেত্রে মূলত বয়স্ক ব্যক্তিকে নিয়ে পরিচালিত হয় যেটা বস্তুত একধরনে টক বা কথা বলা থেরাপী। এই পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ গুনগত বিষয়ের উপর দন্ডায়মান আর সেটি হচ্ছে, নিঃশর্ত ইতিবাচক মনোভাব। কোনোভাবেই রোগীকে বিচার বা বিশ্লেষণ করা যাবে না অর্থাৎ, ব্যক্তিকে ঠিক তার মত করেই গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কেয়ারগিভারের একটি গুরুদায়িত্ব হচ্ছে রোগীর কাছে নিজেকে একটি পরিপূর্ণ আস্থা ও সহযোগীতার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা। রোগীর বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে পারলে সেবা প্রদান করার কাজটি অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। এর কয়েকটি প্রধান উদ্দেশ্য নিম্নরুপঃ
- ব্যক্তিগত বৃদ্ধি ও বিকাশ ত্বরান্বিত করা
- উদ্বেগানুভুতি দূর করা বা প্রশমিত করা
- আত্নবিশ্বাস ও খোলামনে কথা বলার সামর্থ্য বৃদ্ধি করা
- নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি করা
ব্যক্তি কেন্দ্রিক থেরাপি বা কাউন্সেলিং এমন একটি কৌশল যেখানে ব্যক্তিকে একজন এক্সপার্ট হিসেবে দেখা হয়।

ব্যক্তি কেন্দ্রিক কাউন্সেলিং-এর মূল শর্ত তিনটিঃ
- কাউন্সিলর সেবাগ্রহীতের সাথে ঐকমতে পৌঁছাবে।
- থেরাপিস্ট ক্লায়েন্টকে নিঃশর্তভাবে ইতিবাচক সম্মান প্রদর্শন করবে।
- থেরাপিস্ট ক্লায়েন্টের প্রতি একটি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখাবে।
একজন ক্লায়েন্টের “পুরোপুরি কার্যক্ষম ব্যক্তি” হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা একজন থেরাপিস্টের কাজ। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এই ধারণাকে যে, একজন ব্যক্তি নিজের বাস্তবতা অর্জনে সর্বদা সচেষ্ট যেখান থেকে তাকে আত্ম সচেতনতার একটি জায়গায় পৌছানো সম্ভব। ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাউন্সেলিং এর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কৌশলগুলো খুবই কার্যকরীঃ
- রোগীকে কোনো প্রকার আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করা যাবে না।
- নিঃশর্ত ইতিবাচক মনোভাব মনোভাব প্রদর্শন কর।
- রোগীকে নিজের সত্যিকারের ব্যক্তিসত্ত্বা উন্মোচনা সহায়তা কর।
- কথা বলা ও শোনার ক্ষেত্রে সহমর্মীতা প্রদর্শন কর।
- নেতিবাচক আবেগগুলোকে সাদরে গ্রহণ কর
- খুবই সক্রিয়ভাবে রোগীর কথা শুনতে হবে।
- সঠিক বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বজায় রাখুন।
- রোগীর কথার অর্থ না পাল্টিয়ে পুনরাবৃত্তি কর।
- রোগীর কথা আপনি যে বুঝেছেন সেটা তাকে বুঝতে দিন। এক্ষেত্রে তার কথাটিকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে পারেন, যেটাকে বলা হয় প্যারাফ্রেস করা।
- উচ্চস্বরে মোটেও কথা বলা যাবে না। কথা সমান তালে বলতে চেষ্টা কর ও এর মাধ্যমে সহযোগীতামূলক মনোভাব ফুটিয়ে তুলুন।
- ওপেন এন্ডেড প্রশ্ন কর, অর্থাৎ, রোগীকে তার মনের কথা সম্পূর্নরূপে বলতে দিন।
- শোনার আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে। রোগীকে বুঝতে দিন যে আপনি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং শেষ পর্যন্ত শুনতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে ভার্বাল ও নন-ভার্বাল উভয়ভাবেই প্ৰকাশ করা যায়। যেমন, মৌধিক প্রকাশের জন্য বলতে পারেন যে, আপনার কথা আমি বুঝতে পারছি না শুনতে ভালো লাগছে অথবা, আপনার কোনো অসুবিধা না থাকলে আপনি বলতে পারেন, আমি শুনতে ইচ্ছুক। অনেক সময় আমরা শুধু মাথা নাড়িয়েও আমাদের ‘ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারি যেটি নন-ভার্বাল কৌশলের একটি উদাহরণ।