আজকে আমরা দেহতত্ত্ব ও শরীরতত্ত্ব সংক্রান্ত পরিভাষা আলোচনা করবো। যা পেশেন্ট কেয়ার টেকনিক ১ এর বেসিক হিউমান বায়োলোজি ও এর প্রয়োগ অংশের অন্তর্গত।

দেহতত্ত্ব ও শরীরতত্ত্ব সংক্রান্ত পরিভাষা
দেহতত্ত্ব বা (Anatomy) ব্যবহৃত শব্দাবলি
দেহতত্ত্ব বা (Anatomy)-
মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন সম্পর্কে জ্ঞান।
সামগ্ৰিক দেহতত্ত্ব (Gross Anatomy)-
মানবদেহের গঠন সম্পর্কে জ্ঞান যা খালি চোখে দেখা যায়।
স্থানিক দেহতত্ত্ব (Regional Anatomy)-
মানবদেহের এক একটি অংশ বা স্থানের বিভিন্ন ভাগের বর্ণনা। যেমন- মাথা ও গলা (Head Neck), উর্ধাঙ্গ (Upper Limb), নিম্নাঙ্গ (Lower Limb) ইত্যাদি।
তন্ত্ৰীয় দেহতত্ত্ব (Systemic Anatomy) –
মানবদেহের এক একটি তন্ত্রের গঠন সম্পর্কে জ্ঞান। যেমন- শাসনতন্ত্র (Respiratory System), পরিপাকতন্ত্র (Digestive System) ইত্যাদি।
আণুবীক্ষণিক দেহতত্ত্ব (Histology) –
মানবদেহের ক্ষুদ্র অঙ্গসমূহের গঠন যা অণুবীক্ষণ যন্ত্ৰ (Microscopic) এর সাহায্যে দেখা যায়। যেমন- কোষের গঠন, কলার গঠন প্রভৃতি।
সাধারণ শরীরতত্ত্ব (General Physiology)-
মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও জীব কোষের মৌলিক গঠন, উৎপত্তি, বৃদ্ধি সংক্রান্ত ভৌতিক ও রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে জ্ঞান।
অস্থি বিদ্যা (Osteology)
হাড় (Bone) সম্পর্কে জ্ঞান। যেমন- হিউমেরাস, ফিমার, রেডিয়াস ও আলনা, টিৰিয়া, ফিবুলা, কশেরুকা ইত্যাদি।
সন্ধি বিদ্যা (Arthrology )
মানবদেহের বিভিন্ন সন্ধি (Joint) সম্পর্কে জ্ঞান। যেমন- ফল্ধ সন্ধি (Shoulder Joint), জংঘা সন্ধি (Hip Joint), কনুই সন্ধি (Elbow Joint) ইত্যাদি।
পেশি বিদ্যা (Myology)-
পেশি সম্পর্কে জ্ঞান। যেমন- বাহুর পেশি (Biccpa), হৃদপেশি (Cardiac Muscle) |
রক্তরোগ বিদ্যা (Haematology)-
রক্তরোগ সম্পর্কে জ্ঞান।
যকৃতরোগ বিদ্যা (Hepatology)-
যকৃত রোগ সম্পর্কে জ্ঞান ।
চর্মরোগ বিদ্যা (Dermatology)-
চর্মরোগ সম্পর্কে জ্ঞান।
স্নায়ুরোগ বিদ্যা (Neurology)-
স্নায়ুরোগ সম্পর্কে জ্ঞান।
হৃদরোগ বিদ্যা (Cardiology)-
হৃদরোগ সম্পর্কে জ্ঞান।
স্ত্রীরোগ বিদ্যা (Gynaecology)-
স্ত্রীরোগ সম্পর্কে জ্ঞান।
মূত্ররোগ বিদ্যা (Urology)-
মূত্র ও মূত্ররোগ সম্পর্কে জ্ঞান।

দৈহিক অবস্থান (Anatomical Position)-
একজন মানুষ হাত, পা, সোজা করে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে সামনে তাকালে তার যে ভলিমা হয় তাকে দৈহিক অবস্থান (Anatomical Position) | দেহতত্ত্ব বর্ণনা করার জন্য কতকগুলো কাল্পনিক রেখা দ্বারা দেহকে ভাগ করা হয়ে থাকে।
মধ্যমা তল (Median Plane)-
একটি কাল্পনিক উল্লখ তল যা মানবদেহের কেন্দ্রবিন্দু দিয়ে অতিক্রম করে ডান ও বাম সমান দুই ভাগে ভাগ করেছে।
তীর্যক তল (Sagittal Plane)-
একটি কাল্পনিক উল্লখ তল যা দেহের মধ্যমা তলের সমান্তরালভাবে অতিক্রম করেছে।
কিরীট তল (Coronal Plane)-
একটি কাল্পনিক উল্লম্ব ফল যা দেহের মধ্যমা তলের সমকোণে অতিক্রম করে দেহকে সামনে এবং পিছনে দুইটি অংশে বিভক্ত করেছে।
অনুভূমিক তল (Transverse Plane)
একটি কাল্পনিক তল যা দেহের মধ্যমা ও কিরীট ভলকে সমকোণে অতিক্রম করে দেহকে উপর এবং নিচ দুইটি অংশে বিভক্ত করেছে।
মধ্যমাবর্তী (Medial) –
দেহের কোনো অংশের তুলনামূলক বা আপেক্ষিক অবস্থান যা মধ্যমাবর্তী তলের নিকটবর্তী অঙ্গকে মধ্যমাবর্তী অঙ্গ বলে। যেমন- আলনা (Ulna) হাড়টি রেডিয়াস (Radius) হাড় থেকে মধ্যমবিৰ্ত্তে (Medially) অবস্থিত।
পার্শ্ববর্তী (Lateral)-
দেহের কোনো অংশের তুলনামূলক বা আপেক্ষিক অবস্থান যা মধ্যমা তলের দূরের অঙ্গকে বলা হয় পার্শ্ববর্তী (Lateral)। যেমন- হাতের রেডিয়াস (Radius) হাড়টি আনা (Ulna) থেকে পার্শ্ববর্তী (Laterally) অবস্থানে রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ (Internal)-
দেহের কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত যে কোনো অঙ্গ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ (Internal Organ) যেমন- পিত্ত থলি (Gallbladder)
বাহ্যিক (External)-
দেহের বাইরের দিকে অবস্থিত অঙ্গসমূহকে বাহ্যিক অঙ্গ (External Organ) বলে। যেমন- ত্বক (Skin) I

উর্ধ্ববর্তী (Superficial) –
দেহের কোনো অংশের তুলনামুলক বা আপেক্ষিক অবস্থান যা দেহের উপরিভাগ থেকে কল্পনা করলে যেটা উপরিভাগের কাছে অবস্থিত তাকে উর্ধ্ববর্তী অঙ্গ (Superficial Organ) বলা হয়। যেমন- বাহুর মাংশ পেশি হাড়ের উবর্তে অবস্থিত।
গভীর (Deep)-
দেহের কোনো অংশের তুলনামূলক বা আপেক্ষিক অবস্থান যা দেহের গভীরে বা ভেতরে অবস্থিত অঙ্গসমূহকে গভীরের অঙ্গ (Deep Organ) বলা হয়। যেমন- বাহুর হাড় মাংশ পেশির গভীরে অবস্থিত।
সম্মুখবর্তী (Anterior)-
দেহের কোনো অংশের তুলনামূলক বা আপেক্ষিক অবস্থান যা সামনের দিকের অবস্থান প্রকাশ করে। যেমন- নাক কানের থেকে সম্মুখবর্তী (Anterior) |
পশ্চাৎবর্তী (Posterior)
দেহের কোনো অংশের তুলনামূলক বা আপেক্ষিক অবস্থান যা দেহের পিছনের দিকের অবস্থান প্রকাশ করে। যেমন- কান নাকের থেকে পশ্চাৎবর্তী (Posterior) |
উপরে (Superior)-
দেহের কোনো অংশের তুলনামুলক বা আপেক্ষিক অবস্থান দেহের মাথার নিকটবর্তী অঙ্গের অবস্থান প্রকাশ। যেমন- হৃদপিণ্ড ব্যবচ্ছেদ পেশির (Diaphragm) উপরে অবস্থিত।
নিচে (Inferior)-
দেহের কোনো অংশের তুলনামূলক বা আপেক্ষিক অবস্থান দেহের পায়ের নিকটবর্তী অঙ্গের অবস্থান প্রকাশ করে। যেমন- ব্যবচ্ছেদ পেশি (Diaphragm) হৃদপিন্ডের নিচে অবস্থিত।

এক দিকে (Ipsilateral)
দেহের একই পার্শে অবস্থিত অঙ্গ। যেমন- ডান হাত এবং ডান পা দেহের একই দিকে অবস্থিত।
বিপরীত দিকে (Contralateral)
দেহের বিপরীত পাশে অবস্থিত অঙ্গ। যেমন- ডান হাত এবং বাম হাত দেহের বিপরীত দিকে অবস্থিত।
এনাটমির বর্ণনার জন্য পেটকে চারটি কাল্পনিক লাইন দিয়ে মোট নয়টি ভাগে ভাগ করা হয়-
১) ডান উল্লম্ব তল (Right Vertical Plane)-
এই তলটি ডান স্তনবৃন্তের সোজাসুজি নিচে নেমে আসে
২) বাম উল্লম্ব তল (Left Vertical Plane)-
এই তলটি বাম স্তনবৃত্তের সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
৩) পাইলোরাসের মধ্যতল (Transpyloric Plane)-
এটি সামনের পাজড়ার বরাবর আড়াআড়ি তল।
৪) টিউবারকুলের অন্তবর্তী তল (Inter Tubercular Plane)-
বস্তির দুইটি প্রধান হাড় (Pelvic Bone) এর সামনের পয়েন্ট বা Anterior Superior Iliac Spine- এর সংযোগ লাইন।
এর ফলে পেট যে নয়টি ভাগে বিভক্ত হয়-
ক) উপরের তিনটি ভাগ
১) ডান হাইপোকোনোড়িয়াক (Right Hypochondriac),
২) ইপিগ্যাসট্রিক (Epigastric) ও
৩) বাম হাইপোকোনোড়িয়াক (Left Hypochondriac)।

খ) মাঝের তিনটি ভাগ:
৪) ডান লাম্বার (Right Lumber),
৫) আম্বিলিক্যাল (Umbilical) ও
৬) বাম লাম্বার (Left Lumber)।
গ) নিচের তিনটি ভাগ
৭) ডান ইলিয়াক (Right Iliac),
৮) হাইপোগ্যাস্ট্রিক (Hypogastric )ও
৯) বাম ইলিয়াক (Left Iliac) । এই ভাগ অনুযায়ী পেটের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গসমূহের অবস্থান ও রোগের লক্ষণ বুঝতে সুবিধা। হয়।
১ thought on “দেহতত্ত্ব ও শরীরতত্ত্ব সংক্রান্ত পরিভাষা”