পোঁড়া এর চিকিৎসা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পোঁড়া এর চিকিৎসা – যা প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা এর অন্তর্ভুক্ত।

Table of Contents

পোঁড়া এর চিকিৎসা

মানুষের শরীরের ত্বক যখন কোনো দাহ্য পদার্থ অর্থাৎ আগুন, যে কোনো উত্তপ্ত পদার্থ, যেমন উত্তপ্ত কোনো বন্ধু । উত্তপ্ত কোনো তরল পদার্থ বা উত্তপ্ত বাদু, এসিডসহ অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদির সংস্পর্শে এসে কোনো ক্ষতের সৃষ্টি করে তাকেই পুড়ে যাওয়া বা পোড়া বলে।

গোড়ার প্রকৃতি ও গুরুত্ব নিরূপণ করা, গোড়ার কারণ, শরীরের কোন কোন জায়গা পুড়েছে, পোড়ার গভীরতা কতটুকু, শ্বাসনালি পুড়েছে কিনা, আলেগালের কোনো সামগ্রী পোড়ার ফলে নির্গত কার্বন-মনো-অক্সাইড বা অন্য কোনো বিষাক্ত গ্যাস ব্যক্তি শ্বাসের সাথে গ্রহণ করেছে কিনা ইত্যাদি বিষয় নিরুপণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যক্তির শরীরের বেশ খানিকটা জায়গা যদি পুড়ে থাকে তাহলে শরীর থেকে জলীয় পদার্থ বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অধিক এবং এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি শকে যেতে পারে। হাতে ও পায়ে গোড়ার কারণে জলীয় পদার্থ জমে ফুলে উঠার সম্ভাবনা থাকে। প্রায় সকল ধরনের পোড়ার ক্ষেত্রেই যেহেতু সুরক্ষা ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাই সংক্রমণের সম্ভাবনাও থাকে খুব বেশি।

পোড়ার মাত্রা সনাক্তকরনণ

গোড়ার কারণে ত্বকের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপর নির্ভর করে মাত্রা নির্ণয় করা হয়ে থাকে ।

প্রথম মাত্রার পোড়া (Superficial Barn)

ত্বকের উপরের স্তর ইপিডারমিস গুড়ে থাকলে তাকে প্রথম মাত্রার পোড়া বলা হয়ে থাকে।

লক্ষণ ও চিহ্ন

  • চামড়া ফুলে যাবে
  • চামড়া নরম হয়ে যাবে
  • চামড়ার উপরিভাগ লাল হয়ে যাবে।
  • প্রথম মাত্রার পোড়া প্রাথমিক চিকিৎসায় দ্রুত সেরে ওঠে।

দ্বিতীয় মাত্রার পোড়া (Partial thickness burn

ইপিডারমিসহ ডারমিসের উপরিভাগ গোড়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তার দ্বিতীয় মাত্রার পোড়া বলা হয়ে থাকে। এ ধরনের পোড়ায় ব্যক্তি খুব ব্যথা অনুভব করে। শরীরের ১০-২০% দ্বিতীয় মাত্রার পোড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।

লক্ষণ ও চিহ্ন

  • চামড়া নরম হয়ে যাবে
  • চামড়ার উপর ফোসকা পড়ে যাবে
  • দু-একটা ফোসকা ফেটেও যেতে পারে

 

পোঁড়া এর চিকিৎসা

 

তৃতীয় মাত্রার গোড়া (Full thickness burn)

পোড়ার কারণে ত্বকের ইপিডারমিস ও ডারমিস উভয় স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে তৃতীয় মাত্রার পোড়া বলা হয়ে থাকে। তৃতীয় মাত্রার পোড়ায় ত্বকের গভীরে | চর্বি, মাংসপেশি, রক্তনালি, স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।

লক্ষণ ও চিহ্ন

  • গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হবে
  • চামড়া ধূসর বর্ণের হবে
  • মাংসপেশি পলে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে

প্রাথমিক চিকিৎসা

১। গোড়া স্থানে প্রচুর ঠান্ডা পানি ঢালুন। ব্যক্তি যে অবস্থায় আরাম পায় সে অবস্থায় রাখ কিন্তু লক্ষ্য রাখ যাতে পোড়া স্থান কোনভাবেই মাটির সংস্পর্শে না আসে।

২। হাসপাতালে প্রেরণের জন্য যোগাযোগ কর। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে উপস্থিত কাউকে এ কাজটি করতে বল।

৩। পোড়া স্থানটিতে কমপক্ষে ১০ মিনিট ঠাণ্ডা পানি ঢালুন। ব্যথা না কমা পর্যন্ত ঠাণ্ডা পানি ঢালা যাবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে অতিরিক্ত ঠাণ্ডাপানি ঢালার কারণে শরীরের তাপমাত্রা যেন স্বাভাবিকের চাইতে কমে না যায়। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন অবস্থা ঘটার সম্ভাবনা থাকে ।

৪। পোড়া স্থানটিতে হাত দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এমনকি পোড়া স্থানে আটকে থাকা কাপড়ও তুলে ফেলার প্রয়োজন নেই। পোড়া স্থানের আশেপাশের কাপড়, বেল্ট, জুতা,মোজা, আংটি, ঘড়ি খুলে ফেলুন। তা না হলে পোড়া স্থান ফুলে গিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

৫। পোড়া স্থানটি ঠাণ্ডা হয়ে এলে একটি পরিষ্কার প্লাস্টিক ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দিন। প্লাস্টিক ব্যাগটি যথাস্থানে রাখার ফলে ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা যাবে। তবে ব্যান্ডেজটি যেন কোনভাবেই পোড়া স্থানকে স্পর্শ না করে। ৬। ব্যক্তিকে আশ্বস্ত কর। প্রয়োজনে শকের প্রাথমিক চিকিৎসা দাও। মনিটর কর শ্বাস-প্রশ্বাস, পালস এবং সাড়া দেওয়ার পর্যায়।

 

সাবধানতা

  • পোড়া স্থানে আটকে থাকা পরিধেয় কাপড় বা অলঙ্কার টেনে তোলার প্রয়োজন নেই। তা করলে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কাপড়ের চারপাশ দিয়ে কেটে দেওয়া যেতে পারে।
    কোন ফোসকা গলানোর প্রয়োজন নেই ।
  • কোন প্রকার লোশন, অয়েন্টমেন্ট বা অন্য কোন ওষুধ পোড়া স্থানে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি বাজারে পাওয়া যায় এমন কোন স্প্রে, বিশেষ ড্রেসিং বা জেল দেওয়ার প্রাথমিক চিকিৎসার আওতাভুক্ত নয়। তাতেও সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • আঠাযুক্ত টেপ ব্যবহার করা যাবে না।
  • মুখমণ্ডল পুড়ে গেলে তাতে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তা করলে অসাবধানতাবশত ব্যক্তির শ্বাস রোধ হতে পারে।

ফিট, মূর্ছা যাওয়া ও অজ্ঞান হওয়া: (Fit, Fainting and Unconsciousness) ফিট (Fit) কি

কোন ব্যক্তির যখন কোনো কারণে খিচুনি অর্থাৎ মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণ হয় সে অবস্থাকে ফিট বলে। উল্লেখ্য যে, এই ফিট ২-৩ মিনিটের মধ্যে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। ফিটকে মেডিক্যালের ভাষায়
Seizure বা Convulsion বলা হয়ে থাকে ।

ফিটের কারণ

মানব দেহের মস্তিষ্ক বিদ্যুৎ তরঙ্গের মাধ্যমে কাজ করে। কোনো কারণে এই বিদ্যুৎ তরঙ্গে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে ফিট অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

  • ইপিলেপসি বা মৃগী রোগ (Epilepsy)
  • মাথায় আঘাত বা মস্তিষ্কের সংক্রমণ (মেনাওজাইটিস/Meningitis ), অত্যধিক জ্বর
  • মস্তিষ্কের কোন রোগ
  • মস্তিষ্কে অক্সিজেন বা গ্লুকোজের ঘাটতি
  • মদ বা মাদকের প্রভাব
  • গর্ভকালীন বা প্রসবের পর জটিলতা (একলাম্পসিয়া / eclampsia) হিস্টেরিয়া

ফিটের লক্ষণ

  • মুখ থেকে ফেনা বের হওয়া। জিভে কামড় লাগলে রক্তাভ ফেনা বের হতে পারে ।
  • শরীর ঝাকানো, মোচড়ানো এবং ছটফট করা।
  • ঠোঁট ও মখ নীলাভ বর্ণ ধারণ।
  • চোখের মণি অস্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করা ।
  • শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তন ।
  • শরীর শক্ত হয়ে পেছনের দিকে উল্টানো ।
  • কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
  • দাঁত লেগে যাওয়া ।
  • মল-মূত্র ত্যাগ করতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসকের লক্ষ্য

ব্যক্তিকে খিচুনির সময় কোনো প্রকার আঘাত থেকে রক্ষা করা। সচেতন হওয়ার পরও ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করা।

ফিটে আক্রান্ত শিশুর প্রাথমিক চিকিৎসা

শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত অতিরিক্ত জ্বরের সাথে গলা বা কান বা অন্য কোনো প্রকার সংক্রমণ থাকার কারণে ফিট হয়ে থাকে। অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে মস্তিষ্কে বিদ্যুৎ তরঙ্গের তারতম্য দেখা দেয় এবং ফলশ্রুতিতে ফিট হয়ে থাকে। প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে শিশুদের ফিটের জটিলতা প্রশমন করা যায়। তবে শিশুদের সকল ফিটের ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

  • শিশুর মাথা, ঘাড় ও শরীরের চারপাশে প্যাড দেওয়ার ব্যবস্থা কর। এতে আঘাত প্রতিররোধ করা সম্ভব হবে। খিচুনির সময় চেপে ধরা যাবে না ।
  • শিশুর যদি জ্বর থাকে তাহলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নাও।
  • খিচুনির সময় নয়, খিঁচুনি বন্ধ হয়ে যাবার পর তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নাও। লক্ষ্য রাখতে হবে তাপমাত্রা যেন স্বাভাবিকের চাইতে কমে না যায় । খিচুনি বন্ধ হয়ে গেলে রিকভারি অবস্থায় রাখ।
  • শিশুর পিতা-মাতাকে আশ্বস্ত কর। মনিটর কর- শ্বাস চলাচল, পাস এবং সাড়া দেওয়ার পর্যায়। হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা নাও।

ফিটের ক্ষেত্রে কখন হাসপাতালে প্রেরণ জরুরি?

  • ব্যক্তির ঘনঘন খিঁচুনি হলে
  • ব্যক্তির জীবনে এটাই প্রথম খিঁচুনি হলে
  • ব্যক্তি খিঁচুনি সম্পর্কে কোন কারণ উল্লেখ করতে না পারলে
  • ৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে খিঁচুনি হলে
  • ১০ মিনিটের অধিক সময় ধরে অচেতন থাকলে

সাবধানতা

  • জোর করে হাত পা চেপে ধরে খিঁচুনি বন্ধের চেষ্টা করা যাবে না।
  • মুখে কোন খাবার বা পানীয় দেওয়া যাবে না।

মূর্ছা (Fainting) কি

কোন ব্যক্তির অল্প সময়ের (২-৩ মিনিট) জন্য সচেতনতা বোধ কমে যাওয়া এবং কিছু সময় পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা, আবার একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হতে পারে এ রকম অবস্থাকে মূর্ছা বলে।

মুর্ছার কারণ

  • প্রধানত সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে কোন ব্যক্তি মূর্ছা যায়।
  • শরীরে জলীয় পদার্থের ঘাটতি, যেমন- রক্তক্ষরণ, ডায়রিয়া, প্রচুর ঘাম, অত্যধিক পুড়ে যাওয়া, প্রচুর বমি – দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা
  • মারাত্মক এলার্জি
  • মানসিক কারণ, যেমন- ভয়, দুঃসংবাদ বা সুসংবাদ, দুশ্চিন্তা
  • অতিরিক্ত বা ভুল ওষুধ সেবন
  • অপুষ্টি।

মুর্ছার লক্ষণ

  • শারীরিক দুর্বলতা, প্রচুর ঘাম, পালস দ্রুত ও দুর্বল, শরীর ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে হওয়া
  • শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত ও দুর্বল
  • শরীর ধূসর-নীল বর্ণ ধারণ করা
  • বমি বমি ভাব অথবা বমি
  • তৃষ্ণা বোধ করা
  • চোখে ঝাপসা দেখা
  • অস্থির হয়ে উঠা
  • অজ্ঞান হওয়া
  • শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎপিন্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া ।

প্রাথমিক চিকিৎসা:

ব্যক্তিকে সমান্তরালভাবে শুইয়ে পা দু’টি উঁচু করে দিতে হবে। এতে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহের উন্নয়ন ঘটবে।

  • ঠাণ্ডা প্রতিরোধে ব্যক্তিকে মাদুর, চাদর বা কম্বলের উপর রাখা।
  • ব্যক্তিকে উষ্ণ রাখার জন্য গায়ে চাদর বা কম্বল জড়িয়ে দেওয়া
  • নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ করতে হবে, বিশেষ করে শ্বাস-প্রশ্বাস, নাড়ি বা পালস, সাড়া দেওয়ার পর্যায়।
  • জামা কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে, তাতে রক্ত সঞ্চালনে সুবিধা হবে।
  • মুক্ত বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ব্যক্তির অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
  • অবস্থার উন্নতি হলে রিকভারি পজিশনে (আরামদায়ক অবস্থায়) শুইয়ে দিতে হবে।

অজ্ঞান (Unconsciousness )

কোন ব্যক্তি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য অচেতন হয়ে যায় এবং কোন প্রকারের সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়। তবে সে অবস্থাকে অজ্ঞান বলে। ব্যক্তির অজ্ঞান অবস্থা কোন পর্যায়ে আছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার সচেতনতা পর্যবেক্ষণ। করতে হবে।

নিচে সচেতনতার বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো উল্লেখ্য যে, সচেতনতা পর্যবেক্ষণের পূর্বে শ্বাসনালি পরিষ্কার ও খোলা আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। অঠচট কোড ব্যবহার করে সচেতনতার পর্যায় বোঝা যাবে।

 

পোঁড়া এর চিকিৎসা

 

অজ্ঞান ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা

  • শ্বাসনালি খুলে দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করতে হবে।
  • শ্বাস বন্ধ থাকলে কৃত্রিম শ্বাস দিয়ে প্রয়োজনে সিপিআর শুরু করতে হবে।
  • শ্বাস-প্রশ্বাস চালু থাকলে ব্যক্তির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নোট লিখতে হবে।
  • প্রয়োজনে ব্যক্তিকে জরুরিভাবে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ব্যক্তির অসুস্থতার কারণ হিসেবে কোন তথ্য জানতে পারলে তা চিকিৎসকের কাছে প্রেরণের ব্যবস্থা কর।

সাবধানতা

  • অজ্ঞান ব্যক্তির মুখে খাবার বা পানীয় দেওয়া যাবে না।
  • অযথা অজ্ঞান ব্যক্তিকে নড়াচড়া করা যাবে না।
  • ব্যক্তিকে একা রেখে যাওয়া যাবে না ।
  • যদি ৩ মিনিটের মধ্যে ব্যক্তির জ্ঞান না ফেরে তবে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে ।
  • যদি ৩ মিনিটের মধ্যেই জ্ঞান ফিরে আসে তাহলে ব্যক্তিকে রিকভারি পজিশনে রাখতে হবে, তবে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে হবে।

বিষক্রিয়া (Poisoning)

মানুষের শরীরে বিষ বা অন্য কোন পদার্থ যদি এমন পরিমাণে প্রবেশ করে যে তা ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করে তাকে বিষক্রিয়া বলে। বিষক্রিয়ার প্রভাব স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি উভয় ধরনেরই হতে পারে।

বিষক্রিয়ার ধরণ

  • খেয়ে ফেলা বা পান করার মাধ্যমে
  • স্পর্শের মাধ্যমে (ত্বকের মাধ্যমে)
  • শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে

বিষক্রিয়ার লক্ষণ

  • বমি, ডায়রিয়া
  • মুখসহ ঠোটের চারপাশে পুড়ে যাওয়া
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা
  • শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • শরীরের তাপমাত্র কমে যাওয়া
  • পেট ব্যথা, শরীর ও ঠোটের বর্ণ ধূসর-নীলচে হওয়া
  • অস্থিরতা, মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া, খিচুনি

প্রাথমিক চিকিৎসকের লক্ষ্য

  • বিষক্রিয়ার কারণ চিহ্নিত করা
  • যদি বিষ পান করে থাকে তবে তা দাহ্য জাতীয় কিনা নির্ণয় করা
  • ব্যক্তি অজ্ঞান না সজ্ঞান সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া

এক নজরে বিষক্রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসার ছক :

 

পোঁড়া এর চিকিৎসা

 

পোঁড়া এর চিকিৎসা

 

সাবধানতা

  • এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
  • ব্যক্তিকে একা রেখে যাওয়া যাবে না ।
  • ব্যক্তিকে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে
  • ব্যক্তিকে উষ্ণ রাখার জন্য সরাসরি তাপ দেওয়া যাবে না ।

Leave a Comment