আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সংক্রমণ, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রদাহ – যা সংক্রমণ, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এর অন্তর্ভুক্ত।
সংক্রমণ, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রদাহ

জীবিত রক্তসঞ্চালিত টিস্যুতে কোনো ক্ষতি হলে দেহ যে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয় তাকে প্রদাহ বলে। প্রদাহের অবস্থান যে অঙ্গে তার নামের শেষে আইটিস (Itis) কথাটি যোগ করে প্রদাহের নাম উল্লেখ করা হয়। যেমন- এপেন্ডিকস সাইটিস (Appendicitis), টনসিলাইটিস (Tonsilitis) ইত্যাদি। প্রদাহের ইংরেজি পরিভাষা Inflammation শব্দটা এসেছে ল্যাটিন শব্দ ইনফ্লামেয়ার (Inflammare) থেকে, যার অর্থ পুড়ে যাওয়া।
প্রদাহের শ্রেণিবিন্যাস:
১। তীর প্রनাহ (Acute Infilammation):
আঘাত, অস্ত্রপচার অথবা সংক্রমণের ফলে ফ্লুইড, প্লাজা প্রোটিন, লিউকোসাইট ও নিউট্রোফিল ইত্যাদির ক্ষরণ হয়। আঘাতের ফলে অতিরিক্ত প্রোটিন এবং মৃত কোষযুক্ত তরল পদার্থ ক্ষরণ হয়। যা প্রদাহের জন্য রক্তনালী থেকে বেরিয়ে টিস্যুতে জমা হয়৷ এই প্ৰদাহ কয়েক মিনিট, ঘণ্টা অথবা কয়েক দিন স্থায়ী হয়। তাঁর প্রদাহের চিহ্ন:
১) তাপ (Heat),
২) লাল হয়ে যাওয়া (Redness),
৩) ফুলে যাওয়া (Swelling),
৪) ব্যথা (Pain)
৫) কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া ( Loss of function) |
তীব্র প্রবাহের কারণ:
ক) সংক্রামক (Infectious agent): ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া প্রভৃতি। ব্যাকটেরিয়াই সাধারণত বেশি প্রদাহ করে থাকে।
খ) স্বতঃঅনাক্রম্য ক্ষত (Immunologic injury):
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার
ফলে হয়ে থাকে। যেমন- এলার্জিক রাইনাইটিস (Allergic rhinitis)
গ) ভৌত ও প্রাকৃতিক (Physical agent):
বিভিন্ন ধরনের আঘাতে থেতলে যাওয়া, কেটে যাওয়া, ঠান্ডা, ভাগ এবং বিকিরণের ফলে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
ঘ) রাসায়নিক বস্তু (Chemical agent) :
শক্তিশালী অ্যাসিড, ক্ষার ও অন্যান্য অনেক রাসায়নিক পদার্থ শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে থাকে।
২। স্থী (Chronic inflammation):
তীব্র প্রদাহ দীর্ঘ স্থায়ীহলে স্বায়ীপ্রদাহের রূপ নেয় ।
স্থায়ীপ্রদাহের কারণ: স্থায়ীপ্রদাহ সাধারণত তীব্র প্রদাহের অনুমতি থেকে সৃষ্টি হয়।
ক) সংক্রামক (Infectious agent):
মাইকো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) বা যক্ষ্মা জীবাণু, মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপরি (Mycobacterium leprae) বা কুষ্ঠ জীবাণু, হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি (Helicobacter Activate pylori) গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসার সৃষ্টিকারী জীবাণু।
খ) ভৌত ও রাসায়নিক বস্তু (Physical and chemical agent):
দীর্ঘ সময় ক্ষতিকারক পদার্থের সংস্পর্শ, যেমন- ধূমপান ফুসফুসে ব্রংকাইটিস ও ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।

গ) স্বয়ং অনাক্রম্য ব্যাধি- (Autoimmune disease) :
রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস (Rheumatoid arthritis),
ক্রনস ডিজিস (Crohn’s disease),
আলসারেটিভ কোলাইটিস (Ulcerative colitis) ইত্যাদি।