আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় শারীরিক অক্ষমতা – যা শারীরিক অক্ষমতায় ব্যবহৃত পরিপুরক উপকরণ ব্যবহার সহায়তা এর অন্তর্ভুক্ত।
শারীরিক অক্ষমতা

অক্ষমতা বা প্রতিবন্ধীতার পরিচিতি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অক্ষমতা বা প্রতিবন্ধীতার তিনটি মাত্রা আছে:
- ব্যক্তির শরীরের গঠন বা কার্যকারিতা, বা মানসিক কার্যকারিতায় সমস্যা; যেমন: যেকোন অঙ্গের ক্ষতি, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা স্মৃতিশক্তি হ্ৰাস ।
- কার্যকলাপের সীমাবদ্ধতা, যেমন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীতা, শ্রবণ প্রতিবন্ধীতা, হাঁটাচলায় সমস্যা।
- স্বাভাবিক দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপ, যেমন অফিসের কাজ, সামাজিক এবং বিনোদনমূলক ক্রিয়াকলাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক পরিষেবা ইত্যাদিতে অংশগ্রহণে বাধা
অক্ষমতা বা প্রতিবন্ধীতার কারণ
১। জন্মগত ত্রুটি
- জিনগত ত্রুটি
- ক্রোমোজোমের ব্যাধি (উদাহরণস্বরূপ, ডাউন সিন্ড্রোম)
- সেরেব্রাল পালসি
- গর্ভাবস্থায় মায়ের রোগ সংক্রমণ (উদাহরণস্বরূপ, রুবেলা) বা অ্যালকোহল বা সিগারেটের মতো পদার্থ।
- বিকাশজনিত সমস্যা (উদাহরণস্বরূপ, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার এবং মনোযোগ-ঘাটতি/অতি চন্চলতার সমস্যা বা ADHD)
২। বাহ্যিক আঘাত
উদাহরণস্বরূপ, মস্তিষ্কের আঘাত বা মেরুদণ্ডের আঘাত
৩। দীর্ঘস্থায়ীরোগ
উদাহরণস্বরূপ, ডায়াবেটিস, যা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, স্নায়ুর ক্ষতি বা অঙ্গহানির মতো অক্ষমতা সৃষ্টি করতে পারে। নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার, মসকুলার ডিসট্রোফি, নিউরোপ্যাথি ইত্যাদি।
৫। বার্ধক্য জনিত রোগ
শারীরিক অক্ষমতা কী
শারীরিক অক্ষমতা হল একজন ব্যক্তির উল্লেখযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী অবস্থা যা তার শরীরের যেকোন একটি অংশকে প্রভাবিত করে তাদের শারীরিক কার্যকারিতা, গতিশীলতা, সহনশীলতা বা দক্ষতাকে দুর্বল ও সীমিত করে।
শারীরিক ক্ষমতা হ্রাসের ফলে ব্যক্তির শরীরের চলনশক্তি যেমন, হাত ও বাহু নড়াচড়া করা, বসা- দাঁড়ানো-হাঁটা এবং সেইসাথে তাদের পেশী নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমে যায়। শারীরিক অক্ষমতা ব্যক্তির নির্দিষ্ট কাজগুলো করতে বাধা দেয় না, তবে সেগুলোকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।
এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে শারীরিক অক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করা হয় শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে না, বরং এটি কীভাবে দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে তার উপর নির্ভর করে। কিছু সাধারণ শারীরিক অক্ষমতার উদাহরণ:
- বার্ধক্য
- আর্থ্রাইটিস
- মৃগীরোগ
- মস্তিষ্কের বা মেরুদন্ডের আঘাতের কারণে প্যারালাইসিস
- সেরিব্রাল পলসি।
সেরিব্রাল পালসি:
সেরিব্রাল পালসি শিশুদের বিকাশকালীন সময়ে ঘটে, যার ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আচরণগত
অক্ষমতা সহ সাধারণত নড়াচড়া এবং সমন্বয়ের সমস্যা হয়ে থাকে।
মস্তিষ্কের আঘাত:
মস্তিষ্কের আঘাত যেমন: স্ট্রোক, মাথায় আঘাত, অ্যালকোহল, ওষুধ, অক্সিজেনের অভাব বা ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন রোগ সহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। মস্তিষ্কের আঘাত ও আবদ্ধতা ব্যক্তির
প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে।
মেরুদন্ডের-আঘাত:
মেরুদন্ডের-আঘাতের ফলে শরীর এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রিয়াকলাপের সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রতিবন্ধকতা হতে পারে। মেরুদণ্ডের আঘাতও ব্যক্তির প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে।
মৃগী রোগ:
মৃগীরোগ হল একটি স্নায়বিক অবস্থা যা একজন ব্যক্তির বারবার খিঁচুনি হওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি করে।

আর্থ্রাইটিস:
আর্থ্রাইটিস হাড়ের সংযোগস্থলে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এটা শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদেরও প্রভাবিত করতে পারে।