আজকে আমরা শ্বাসপ্রশ্বাসের হার বা রেসপিরেটরি রেট সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা পেশেন্ট কেয়ার টেকনিক ১ এর সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা অংশের অন্তর্গত।

শ্বাসপ্রশ্বাসের হার বা রেসপিরেটরি রেট
শ্বাসপ্রশ্বাসের হার হল একজন ব্যক্তির প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংখ্যা। কোনো ব্যক্তিকে বিশ্রামরত অবস্থায় রেখে এটি পরিমাপ করতে হয়। আমরা ফুসফুসে অক্সিজেন নেয়ার জন্য শ্বসনযন্ত্রের মাধ্যমে বাতাস নেই, এটিকে নিঃশ্বাস বা শ্বাস বলে আবার যখন কার্বনডাইঅক্সাইড যুক্ত বাতাস বের করে দেই, সেটিকে বসে প্রশ্বাস। এই শ্বাস-প্রশ্বাসের হার প্রতি মিনিটে বুক কতবার ওঠা-নামা করে তা গণনা করে পরিমাণ করা হয়।
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির বিশ্রামরত অবস্থায় স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসের হার হল মিনিটে ১২ থেকে ২০ টি। কোনো ব্যক্তির এটি যদি ১২ থেকে ২০ এর মধ্যেই থাকে তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছেন বলা যায়, যেটিকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় ‘ইউপনিয়া (Eupnea)। আবার এটি ১২ এর কম হলে তাকে বলা হয় ব্র্যাডিপনিয়া (Bradypnea) এবং ২৫ এর বেশি হলে তাকে বলা হয় টাকিপনিয়া (Tachypnea)।
ব্র্যাডিপনিয়া ও ট্যাকিপনিয়া অস্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নির্দেশ করে এবং এর দ্বারা অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার উপস্থিতি বুঝা যায়। ব্র্যাডিশনিয়া ও ট্যাকিপনিয়ার কিছু উপসর্গ আছে যেগুলো দেখে এগুলোকে সহজেই সনাক্ত করা যায়। যেমন:

| ডিজিনেস | নিশ্বাসের দুর্বলতা |
| শরীর দুর্বল অনুভূত হওয়া | শ্বাস নেয়ার সময় বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া |
| মূর্ছা যাওয়া | বুকের ব্যথার অবনতি হওয়া |
| বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়া | সায়ানোসিস হয়। অর্থাৎ, অক্সিজেনের অভাবে ও ঠোঁটের রঙ নীল বর্ণ ধারণ করে |
| ঘন ঘন শ্বাস নেয়া | পালস রেট বেড়ে যায় |
| স্মৃতি কমে যাওয়া | বিভ্রান্তি ও |
| ৰিভ্ৰান্তি | মাথা ঘোরা বা ডিজিনেস প্রভৃতি। |
| অলসতা ও ঘুমের সমস্য | |
| বমি বমি ভাব ও বমি প্রভৃতি। |
আবার বয়সবেধে শ্বাস প্রশ্বাসের হার বিভিন্ন হয়। যেমন:

বয়সবেধে শ্বাসপ্রশ্বাসের হার
|
বয়স |
শ্বাসপ্রশ্বাসের হার (প্রতি মিনিটে) |
| নবজাতক | ৩০-৬০ ব্রেদ/মিনিট |
| ইনফ্যান্ট | ২৫-৪০ প্রেস/মিনিট |
| টভলার | ২০-৩০ ব্রেস/মিনিট |
| চাইল্ড | ২০-২৫ ব্রেস্ট/মিনিট |
| এডোলসেন্ট | ১৫-২০ ব্রেস / মিনিট |
| প্রাপ্ত বয়স্ক | ১২-২০ ব্রেস্ট/মিনিট |
শ্বাসপ্রশ্বাসের হার পরিমাপের পদ্ধতি:
- রোগীকে বসিয়ে এবং বিশ্রামরত অবস্থায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।
- চেয়ারে বা বিছানায় আরামদায়কভাবে বসিয়ে বা শুইয়ে নিলে ভালো হয়।
- এক মিনিটের ব্যবধানে বুক বা পেট যে পরিমাণ ওঠা-নামা করে তার সংখ্যা গণনা করে শ্বাস প্রশ্বাসের হার পরিমাপ করে নিতে হবে।
- তারপর, তা রেকর্ড শীটে নোট করতে হবে।