আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সাইকোসিস কী? – যা প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা এর অন্তর্ভুক্ত।
সাইকোসিস কী?

- সাইকোসিসে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি চিন্তা, প্রত্যক্ষণ, মনোভাব এবং আচরণে এক ধরনের পরিবর্তন অনুভব করে;
- এ পরিস্থিতিতে ব্যক্তি সাধারণভাবে স্বীকৃত বাস্তবতা থেকে দূরে সরে যায়, যদিও এই সরে যাওয়ার মাত্রা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে;
- সাইকোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখা, কাজকর্ম করা ও নিজের যত বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
সিজোফ্রেনিয়া
- সিজোফ্রেনিয়া একটি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগ, যার সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়। তবে সঠিক চিকিৎসা পেলে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। চিকিৎসার উদ্দেশ্য উপসর্গ কমানো নয় বরং ব্যক্তিকে এই রোগ নিয়ে বাচতে শেখানো।
লক্ষণসমূহ :
ভ্রান্ত বিশ্বাস বা ডিলিউশান
- ডিলিউশান হলো এক ধরনের ভ্রান্তবিশ্বাস; যেমন, কেউ একজন হয়ত এ বিশ্বাসে উপনীত হলো যে তাকে নিপীড়ন করা হচ্ছে বা দোষ দেওয়া হচ্ছে বা সে কোনো বিশেষ মিশনে আছে বা সে কোনো মহান ব্যক্তি বা বাইরে থেকে তাকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে।
অলীক প্রত্যক্ষণ বা হ্যালুসিনেশান
- এগুলো হলো অলীক কিছুর প্রত্যক্ষণ করা; যেমন, কারো কথা শুনতে পারা, কাউকে দেখতে পারা, কোনো কিছু অনুভব করা, কোনো কিছুর স্বাদ নিতে পারা বা গন্ধ অনুভব করা।
- অলীক প্রত্যক্ষণগুলো খুব ভীতিকরও হতে পারে। বিশেষ করে যখন শুনতে পাওয়া শব্দগুলো নেতিবাচক কোনো মন্তব্য করে বা নির্দেশনা দেয় বা অপ্রীতিকর কোনো ধারণার সূত্রপাত করে।
- ভ্রান্তবিশ্বাস বা প্রত্যক্ষণের ভেতর দিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের কাছে এগুলো খুব বাস্তব মনে হয়। সে কারণে তারা এগুলোর বিকল্প কোনো ব্যাখ্যা বিবেচনা করতে চায় না ।
চিন্তার ক্ষেত্রে অসুবিধা:
- মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তা করার ক্ষমতায় এক ধরনের সমস্যা। কেউ একজন হয়ত খুব দ্রুত চিন্তা করতে পারে, এক চিন্তা থেকে আর এক চিন্তায় দ্রুত চলে যেতে পারে; আবার তার চিন্তা করার ক্ষমতা খুব শ্লথও হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় বিচারবোধ, যোগাযোগ করার ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন কাজগুলো করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার (ম্যানিক ডিপ্রেশন)
- এ রোগে আক্রান্ত মানুষের মেজাজে দুটো পর্যায় থাকে বিষণ্ণতা এবং উত্তেজনা। এই দু’টো পৰ্যায় চক্রাকারে চলতে থাকে। তবে এই চক্রাকারের মধ্যে মেজাজের স্বাভাবিক অবস্থাও বিরাজমান থাকে ।
- বিষণ্ণতা এবং উত্তেজনা চক্রের সময়টা একেকজনের জন্য একেকরকম হতে পারে।
- বাইপোলার ডিসঅর্ডার সঠিকভাবে নির্ণয় করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। কারণ দু’টো পর্যায়ের উপস্থিতি না থাকলে এটি অনেক সময় অনির্ণীত থাকে অথবা ভুলভাবে শুধু বিষণ্ণতা হিসেবে নির্ণয় করা হয়ে থাকে।
ম্যানিয়া পর্যায়ের লক্ষণসমূহ:
- একজন মানুষ খুব উত্তেজিত, আনন্দিত, শক্তিতে ভরপুর এবং নিজেকে অপরাজেয় অনুভব করতে পারে;
- নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে; উদাহরণস্বরূপ, এসময় সে নিজেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা কোনো মহান মানুষ মনে করে;
- সে ঝুঁকি বা বিপদকে আমলে নেয় না, অঢেল টাকা পয়সা খরচ করে, খুব স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করে অথবা বেশি বেশি যৌনশক্তি অনুভব করে;
- এসময় সে খুব দ্রুত চিন্তা করে, খুব দ্রুত কথা বলে ও কথা বলার বিষয় দ্রুত বদলাতে থাকে;
- এসময় তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ঘুম হয়। একেবারে না ঘুমিয়েও সে এই অবস্থায় দিনের পর দিন কাটিয়ে দিতে পারে;
- পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে তার মধ্যে অবসাদও দেখা যেতে পারে;
- এসময় তার অন্তর্দৃষ্টির ঘাটতি থাকতে পারে। সে তার ভ্রান্ত ধারণাগুলোকে খুবই বাস্তব মনে করে এবং বিশ্বাস করতে চায় না যে সে অসুস্থ;
- যখন কেউ তার অবাস্তব পরিকল্পনা বা ধারণাগুলোর সাথে দ্বিমত পোষণ করে, তখন সে বিরক্ত হয় ও রেগে যেতে পারে।

সাইকোসিসের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা
- জানা, বোঝা ও ক্ষতির ঝুঁকি নির্ধারণ করা;
- নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সহমর্মিতার সাথে সক্রিয়ভাবে শোনা;
- আশ্বস্ত করা এবং প্রকৃত তথ্য প্রদান করা;
- উপযুক্ত পেশাদারি সাহায্য নিতে উৎসাহিত করা;
- আত্মনির্ভর কৌশল শেখা ও তা অনুশীলনে উৎসাহিত করা।