কঠিন এবং স্পর্শক বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার উপায়

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ কঠিন এবং স্পর্শক বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার উপায়। যা পেশেন্ট কেয়ার টেকনিক ১ এর কমিউনিকেশন এন্ড কাউন্সেলিং অংশের অন্তর্গত।

 

সেনসরি ইমপেয়ারমেন্ট বা ইন্দ্রিয় বৈকল্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ 

 

কঠিন এবং স্পর্শক বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার উপায়

স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, যা প্রায়শই জটিল আবেগের সাথে জড়িত। ক্লায়েন্ট বা তাদের পরিবারের সদস্যর এই আবেগ এবং চিন্তা প্রকাশ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি যিনি সবেমাত্র নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছেন তিনি বলতে পারেন, “আমার পরিবার আমার আর কোনো খোজ খবর রাখেনা” ” বা হোম কেয়ারের ক্ষেত্রে পরিবারের কোনোও সদস্য, যার মা টার্মিনাল অসুস্থতার শেষ পর্যায়ে আছেন, তিনি বলতে পারেন, “আমি আশা করি আমার মা কেবল মারা যাক” অথবা, “আর ভালো লাগছেনা এই বৃদ্ধ পিতার পিছনে টাকা ও সময় নষ্ট করতে, মনে হয় আত্মহত্যা করি”। এ ধরনের মন্তব্য তোমাকে অস্বস্তি, ভয়, নার্ভাসনেস বা অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলে দিতে পারে এবং তখন ঠিক কিভাবে রেসপন্স করতে হবে সে ব্যাপারে দ্বিধায় পড়তে হয়।

 

 

প্রথম প্রতিক্রিয়া হতে পারে এমন যে তুমি এই ধরনের কথোপকথন দ্রুত এড়িয়ে যাওয়ার জন্য ওই স্থান ত্যাগ করছো অথবা খুব দ্রুত কথার প্রসঙ্গ বদলাচ্ছো। অথবা এমন কিছু বলতে পারো যাতে করে মনে হতে পারে যে এই ধরনের ধারণা বা বক্তব্য থেকে উনারা চট করে সরে আসবেন। যেমন অনেকে বলে থাকে যে, “বোকার মত কথা বলবেননা” কিংবা, “এটা কোনো কথা হলো” অথবা “আপনি আসলে যা বলছেন সত্যি কি তাই বুঝাতে চাচ্ছেন?” প্রভৃত। কিন্তু বস্তুত, এই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তির সাথে কার্যত কেয়ায়রগিভারের যোগাযোগ এবং বিশ্বাসের জায়গাটাকে বিনষ্ট করে দেয়।

 

সেনসরি ইমপেয়ারমেন্ট বা ইন্দ্রিয় বৈকল্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ 

 

কেয়ারগিভারের কাজের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তি, সেবা গ্রহীতা ও তার পরিবারের লোকদের সাথে যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা। তাই, উক্ত উপায়ে রেসপন্ড করলে সেবার মূল কর্মকাণ্ড একেবারে ভন্ডুল হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের জটিল বিষয়ে যোগাযোগ বা কথা বলার দরকার হলে নিম্নলিখিত বিবেচনাগুলো সহায়তা প্রদান করতে পারে:

  • সর্বোতভাবে ব্যক্তিটিকে বুঝতে দাও যে তুমি তার আবেগ-অনুভুতিকে যত্নসহকারে গুরুত্ব দিচ্ছো। এক্ষেত্রে, সহানুভুতিশীল আচরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তুমি কোনো কাজে ব্যাস্ত থাকলে চেষ্টা করা কাজটিকে আপাতত বন্ধ রেখে সম্পূর্নভাবে মনোনিবেশ করা এবং সঠিকভাবে দৃষ্টি সংযোগ বা আই কন্টাক্ট বজায় রাখা। যদি উপযুক্ত মনে হয় তবে আলতো করে তার হাতটি চেপে ধর বা কাঁধে স্পর্শ কর। কখনও কখনও ব্যক্তির মূলত প্রয়োজন কেউ তার কষ্টের কথাটি শুধু শুনুক। যদি ব্যক্তি তোমার আগ্রহ এবং সহানুভুতি অনুভব করে তবে তোমার নীরব সমর্থন কখনও কখনও শব্দের চেয়ে আরও অধিক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।
  • প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে কথা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যক্তিকে উত্সাহিত কর (উদাহরণস্বরূপ, “আপনি কি বলছেন যে আপনি আপনার পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি থাকাটা অনুভব করছেন?”) বা ব্যক্তির বার্তাটি নিজের কথায় পুনরাবৃত্তি করে নিশ্চিত কর “মনে হচ্ছে আপনি বলছেন যে আপনি নিজের পরিবারের কাছ থেকে দেখাশুনা করাটাকে খুব অনুভব করছেন”।
  • যদি সেই ব্যক্তির কোনো বিষয়ে সহায়তার প্রয়োজন হয় যা তুমি ঐ মূহুর্তে করতে অক্ষম, তাহলে হ্যাল্‌ল্থকেয়ার টীমের অন্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারো। অভিজ্ঞ কেয়ারগিভার কলিগ কিংবা কেয়ার সুপারভাইজর এক্ষেত্রে ভালো সহায়তা করতে পারে। তবে ঐ মুহুর্তে অবশ্যই ব্যক্তিকে আশ্বস্ত কর যে তুমি এই বিষয়ে সিনিয়র কারো কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পরে জানাবে। পরবর্তীতে অবশ্যই ফলো-আপ রাখতে হবে।

 

বয়স্ক ব্যক্তির সাথে কার্যকর যোগাযোগের কিছু পরামর্শ

 

পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ:

কেয়ারগিভার হিসাবে কাজ করতে গেলে তোমাকে অবশ্যই সেবাগ্রহীতার পরিবারের সদস্যদের সাথে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে সক্ষম হতে হবে। যেহেতু কেয়ারগিভার সেবাগ্রহিতা ব্যক্তির সাথে প্রচুর সময় অবস্থান করে থাকে এবং রুটিন/প্রাত্যহিক কাজে সর্বাধিক সহায়তা প্রদান করে থাকবে, সেহেতু প্রায়শই তুমিই হবেন হ্যাল্‌ল্থ কেয়ার টীমের প্রথম সদস্য যার কাছ থেকে পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা তথা সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইবেন।

পরিবারের কোনোও সদস্য যদি এমন কোনো কিছু জানতে চায় যে বিষয়ে তোমার উপস্থিত জ্ঞান বা বিষয়বস্তু অজানা থাকে তাহলে তাদের কাছ থেকে সময় চেয়ে নাও এবং আপনার টীমের অন্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা; বিশেষ করে অভিজ্ঞ নার্স বা ডাক্তার অথবা আপনার কেয়ার সুপারভাইজারের সাথে কথা বলা। পরবর্তীতে অবশ্যই উক্ত বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে ফলো-আপ রাখতে হবে।

মনে রাখতে হবে, তুমি কিভাবে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলছো বা যোগাযোগ রক্ষা করছো সেটি তোমার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তাদের ভালোবাসার মানুষটি কি ধরনের সেবা পাচ্ছে তার সম্পূর্ন চিত্রটি ফুটিয়ে তুলছে। যত্ন দেওয়ার ক্ষেত্রে তোমার ভূমিকা এবং কার্যধারা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে তুমি পরিবারের সদস্যদের আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে সহায়তা করতে পারো।

 

 যোগাযোগ বা কমিউনিকেশন

 

পরিবারের সদস্যদের সাথে পরিচিত হয়ে, তাদের ফ্যামিলি হিষ্টরি জেনে, তাদের সাথে কথা বলে এবং তাদের কথা শুনে সমগ্র পরিবারের সাথে একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারাটা একজন কেয়ারগিভারের একটি চমৎকার কর্মদক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। পরিবারের সদস্যরা প্রায়শই মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করতে পারেন, উদাহরণস্বরূপ, কী কী কৌশল অবলম্বন করলে তাদের প্রিয়জনের যত্ন নেয়াটা কার্যকরী হবে ইত্যাদি।

পরিবারের সদস্যদের দ্বারা প্রদত্ত তথ্যগুলো তোমার কাজকে আরও সহজ করে তুলতে পারে এবং তোমার করা যত্নের মান শুরু থেকেই অনেকগুন বাড়িয়ে তুলতে পারে। কখনও কখনও, পরিবারের সদস্যরা তাদের পরিবারের সদস্যদের যত্ন সম্পর্কে পূর্বের বা বর্তমানের কোনোও অভিযোগ বা উদ্বেগের কথা বলতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতে পেশাদারিত্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা ও সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আত্মপক্ষ সমর্থন বা রাগান্বিত স্বরে তর্ক করা পরিহার করতে হবে। বরং, কার্যকরীভাবে যোগাযোগ রক্ষা করার মাধ্যমে পরিবারের উদ্বেগের বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে বুঝার চেষ্টা করতে হবে এবং তাদেরকে আস্বস্ত করতে হবে যে আপনি তাদের বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন এবং আপনি উক্ত বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Leave a Comment