আজকের আলোচনার বিষয়ঃ কোলস্টোমি ব্যাগ। যা পেশেন্ট কেয়ার টেকনিক ১ এর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তির কেয়ার গিভিং অংশের অন্তর্গত।

কোলস্টোমি ব্যাগ
মলত্যাগের পথ অর্থাৎ পায়ুপথ ও মলদ্বার যখন কোনো রোগে অকার্যকর হয়ে পড়ে তখন অপারেশন করে এই অংশটি কেটে ফেলে দেওয়া হয়। অতপর খাদ্যনালীর অবশিষ্ট অংশকে পেটের সাথে লাগিয়ে দেওয়া হয়- যেখান থেকে পায়খানা বের হতে পারে।
কোলস্টোমি ব্যাগ লাগানোর নিয়ম
- কোলস্টোমির স্থানটির পাশের (৭-৮ সেমি/৩ ইঞ্চি) বেশ কিছু জায়গা পানি বা স্পিরিট দিয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে ফেলতে হবে।
- চামড়ার ওপর যেন কোনোরূপ ময়লা না থাকে। এরপর যে অংশটি গায়ে লেগে থাকে সেটির মাঝখানের অংশটি কোলস্টোমির আকৃতি অনুযায়ী কাটতে হবে।
- আঠাল অংশের ওপর একটি পাতলা কাগজ লাগানো থাকে তা উঠিয়ে ফেলতে হবে। মাঝখানে কাটা অংশের ভেতর দিকে চতুর্দিকে কোলস্টোমি পেস্ট লাগাতে হবে।
- এরপর ওয়েফারটি পেটের সাথে লাগিয়ে এক মিনিট চেপে রাখতে হবে। কোলস্টোমি ব্যাগটি এবার ওরেফারের সাথে চাপ দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে।
- এই ব্যাগটি মাঝে মাঝে খুলে বাথরুমে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
- এই পুরো প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক পর্যায় একজন কোলস্টোমি কেয়ার গিতার দেখিয়ে দেবেন।
যাদের স্থায়ী কোলস্টোমি থাকে তাদের কখনো কোনো সমস্যা দেখা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। অনেকের বহু বছর ব্যবহারের পরও কোনো সমস্যা হয় না।

কোলস্টোমি ব্যাগের পরিচর্যা
ইরিগেশন পদ্ধতি:
- সাধারণত কোলস্টোমি ব্যাগ পেটের ওয়ালের সাথে লাগিয়ে রাখা হয়, যার মধ্যে মাঝে মধ্যে পায়খানা ও গ্যাস না হয়।
- এ পদ্ধতির অসুবিধা হলো দিনে তিন-চার বার এটি পরিষ্কার করতে হয়। বিশেষ ধরনের একটি ব্যাপের ভেতর দুই লিটার সিদ্ধ পানি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ভরে একটি পাইপের সাহায্যে কোলস্টোমির মুখ দিয়ে খাদ্যনালীর ভেতর ঢুকাতে হয়।
- এতে পায়খানা নরম হয় এবং খাদ্যনালীর বিশেষ ধরনের প্যারিসটাপটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে ভেতরের পায়খানা বেরিয়ে আসে।
- এই কাজটি টয়লেটের ভেতর করতে হবে। পাইপের একটি অংশ ‘ড্রেনেজ পাইপ’ হিসেবে কাজ করে। যার মাধ্যমে পায়খানা পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে এবং টয়লেটে চলে যাবে।
- এ কাজের জন্য একটি ব্যাগ ও একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র সরকার যাতে একটি ব্যাগ ও একটি পাইপ থাকে যার নাম ইরিগেশন সেট।
- এ কাজটি সমাধা করতে রোগীর ৩০ মিনিট লাগে।
- এতে রোগীর আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্বাধারনত আর কোনো পায়খানা বা বায়ু এ পথে বের হয় না।

কেয়ার গিভারের দায়িত্বঃ
- প্রতিদিন কলোস্টোমি ব্যাগের যত্ন নেয়া,
- কলোস্টোমি ব্যাগ পরিষ্কার করা,
- কলোস্টোমি ব্যাগে যেন টান না লাগে,
- জটিলতার দিকে স্বজাগ দৃষ্টি রাখা