আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ফার্স্ট এইডের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা – যা প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা এর অন্তর্ভুক্ত।
ফার্স্ট এইডের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা

এক্সিডেন্ট ও ইমার্জেন্সি অবস্থা নিয়ে আমরা আগের অনুচ্ছেদে জেনেছি। এখন আমরা বিভিন্ন জরুরি অবস্থায় ফার্স্ট এইডের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতা অনুশীলন করব।
শ্বাস প্রশ্বাসে বাধা/ চোকিং (Airway Obstruction / Chocking)
যখন কোনো খাদ্যকণা বা তরল জাতীয় কিছু গলায় আটকে যায় এবং কখনো কখনো শ্বাসনালির মুখ বন্ধ করে দেয়সে অবস্থাকে চোকিং বলে।
চোকিং এর লক্ষণ
- হালকা – ব্যক্তি কথা বলতে পারবে, কাশি দিতে পারবে।
মারাত্মক বাধা
- ব্যক্তি কথা বলতে পারবেনা
- শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে
- ঠোঁট, কানের লতি, হাতের আঙ্গুলের অগ্রভাগ নীলচে দেখাৰে
- মুখের বর্ণ লালচে হয়ে উঠতে পারে
- ব্যক্তি দু’হাত দিয়ে গলা চেপে ধরবে
- কাশি দিতে দিতে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে ।

প্রাথমিক চিকিৎসকের লক্ষ্য
- একজন প্রাথমিক চিকিৎসক হিসেবে তোমার লক্ষ্য হবে
- শ্বাসনালির বাধা অপসারণ করা
- স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করা।
- অবস্থার অবনতি হলে ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা
চোকিং এর প্রাথমিক চিকিৎসা
প্রাপ্ত বয়স্ক সজন জন্য
আহত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করতে হবে, আপনার গলারকি কিছু আটকিয়েছে? হালকা বাধা হলে তিনি কথা বলতে পারবেন, কাশি দিতে পারবেন এবং তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস চলবে। মারাত্মক ৰাধায় ঐ ব্যক্তি কথা বলতে পারবেন না, কাশি দিতে পারবেন না এবং অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
ধাপ – ১
যদি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেন, তাহলে তাকে কাশি দিতে উৎসাহিত করতে হবে। বস্তুটি বেরিয়ে আসতে পারে। যদি না আসে খাল ২ অনুসরণ কর।
ধাপ – ২
আহত ব্যক্তির পেছনে দাঁড়িয়ে এক হাতে তার পেটের নাভি বরাবর ধরে তাকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়ে, শক্ত হাতের হিল দিয়ে গিঠের উপরের অংশের মাঝ বরাবর ৫টি চাপড় দিতে হবে। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে প্রতিটি চাপড় যেন এ ব্যক্তির পিঠের মাঝ বরাবর এবং ঊর্ধ্বসুখী থাকে।

ধাপ – ৩
পিঠে চাপড় দেওয়ার পরও যদি আটকে থাকা বন্ধুটি বেরিয়ে না আসে, তবে একইভাবে ঐ ব্যক্তির পেছনে দাঁড়িয়ে দুই পাশ দিয়ে দুই হাত তার বুকের কড়ি ও নাভির মাঝখানে স্থাপন করতে হবে। দুৰ্বল হাত মুষ্টিবদ্ধ করে শক্ত হাত দিয়ে মুষ্টিটিকে আঁকড়ে ধরতে হবে। ভেতর ও উপরের দিকে ৫টি টান দিতে হবে। এ ক্ষেত্রেও ব্যক্তিকে সামনের দিকে। নুইয়ে নিতে হবে।
ধাপ – ৪
মুখের ভেতর পরীক্ষা কর। যদি আঁটকে থাকা বস্তুটি বেরিয়ে না আসে তাহলে পর্যায়ক্রমে ২ ও খাপ ও প্রয়োগ করতে থাক। প্রতিটি ধাপ সম্পন্নের পর মুখের ভিতর পরীক্ষা কর।
ধাপ – ৫
আটকে থাকা বন্ধুটি যদি এরপরও বেরিয়ে না আসে তাহলে ধাপ ২ ও ধাপ ও পর্যায়ক্রমে করতে করতে হাসপাতালে প্রেরণ কর।
সাবধানতা
যে কোনো পর্যায়ে আহত/অসুস্থ ব্যক্তি যদি অজ্ঞান হয়ে যায় তাহলে তার শ্বাসনালি খুলে দিয়ে শ্বাস চলাচল পরীক্ষা করতে হবে। শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ থাকলে সিপিজার দিতে হবে।